এফএওর প্রতিবেদন

টানা দ্বিতীয় মাসের মতো কমেছে বিশ্বব্যাপী খাদ্যপণ্যের দাম

বিশ্বব্যাপী খাদ্যপণ্যের দাম অক্টোবরে টানা দ্বিতীয় মাসের মতো কমেছে।

বিশ্বব্যাপী খাদ্যপণ্যের দাম অক্টোবরে টানা দ্বিতীয় মাসের মতো কমেছে। পর্যাপ্ত সরবরাহ এ সময় দাম কমার পেছনে ভূমিকা রেখেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি বিভাগের (এফএও) হালনাগাদ মাসভিত্তিক মূল্যসূচক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। খবর রয়টার্স।

এফএওর মূল্যসূচক মূলত আন্তর্জাতিক বাজারে সবচেয়ে বেশি বাণিজ্য হওয়া খাদ্যপণ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়। সংস্থাটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মাসে বিশ্বব্যাপী খাদ্যপণ্যের মূল্যসূচক নেমে এসেছে ১২৬ দশমিক ৪ পয়েন্টে। এটি সেপ্টেম্বরের সংশোধিত ১২৮ দশমিক ৫ পয়েন্টের তুলনায় কম। এছাড়া সূচকটি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কিছুটা কম এবং ২০২২ সালের মার্চের রেকর্ড সর্বোচ্চের তুলনায় ২১ দশমিক ১ শতাংশ নিচে।

এফএও জানায়, জুলাইয়ে দুই বছরের সর্বোচ্চে ওঠার পর আগস্টে স্থিতিশীল ছিল বিশ্বব্যাপী খাদ্যপণ্যের দাম। সেপ্টেম্বরে তা কমে আসে। খাদ্যপণ্যের এ পতনের ধারা গত মাসেও অব্যাহত ছিল। চিনির উল্লেখযোগ্য দরপতন বিশ্বব্যাপী খাদ্যপণ্যের দাম কমার পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে।

অক্টোবরে এফএওর চিনি মূল্যসূচক ৫ দশমিক ৩ শতাংশ কমে ২০২০ সালের ডিসেম্বরের পর সর্বনিম্নে নেমে আসে। বাজার বিশ্লেষকরা জানান, ব্রাজিল, থাইল্যান্ড ও ভারতে উৎপাদন বৃদ্ধির সম্ভাবনা পণ্যটির দাম কমার অন্যতম কারণ।

এফএও আরো জানায়, অক্টোবরে দুগ্ধজাত পণ্যের মূল্যসূচক আগের মাসের তুলনায় ৩ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও নিউজিল্যান্ড থেকে রফতানি বাড়ায় গুঁড়া দুধ ও মাখনের দাম কমেছে।

এছাড়া গত মাসে মাংসের মূল্যসূচক ২ শতাংশ কমেছে। এর আগে আট মাস ধরে ঊর্ধ্বমুখী ছিল বিশ্বব্যাপী পণ্যটির দাম।

দক্ষিণ গোলার্ধের দেশগুলোয় উৎপাদন বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকায় বিশ্ববাজারে সম্প্রতি গমের দাম কমেছে। এছাড়া এশিয়ার প্রধান উৎপাদনকারী দেশগুলোয় দীর্ঘদিন ধরেই চালের দাম নিম্নমুখী রয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে অক্টোবরে এফএওর খাদ্যশস্যের মূল্যসূচক দাঁড়ায় ১০৩ দশমিক ৬ পয়েন্টে। এটি আগের মাসের তুলনায় ১ দশমিক ৩ এবং গত বছরের তুলনায় ৯ দশমিক ৫ শতাংশ কম।

কৃষ্ণ সাগরীয় অঞ্চল থেকে সূর্যমুখী তেলের সরবরাহ কমে যাওয়া, ফসল সংগ্রহে দেরির কারণে সূর্যমুখী তেলের দাম টানা চার মাস ধরে বাড়ছে। ইইউতে সরবরাহ সংকট এবং ব্রাজিল-যুক্তরাষ্ট্রে চাহিদা বৃদ্ধির কারণে সয়াবিন ও সরিষা তেলের দামও ঊর্ধ্বমুখী। এ কারণে এফএওর ভোজ্যতেলের মূল্যসূচক গত মাসে দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ১৬৯ দশমিক ৪ পয়েন্টে পৌঁছেছে, যা ২০২২ সালের জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ।

এদিকে ভিন্ন এক প্রতিবেদনে এফএও জানিয়েছে, চলতি বছর বৈশ্বিক শস্য উৎপাদন রেকর্ড ২৯৯ কোটি টনে পৌঁছতে পারে।

আরও